ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা বিশ্বজগতের এক এবং একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট নিজেকে আত্মসমর্পণ করা। প্রতিটি মানুষই আল্লাহর দাস বা গোলাম যিনি তার দাসের স্রষ্টা, পালনকর্তা। যিনি তার দাসকে ভালোবাসেন নিজের গর্ভেধারন করা মায়ের থেকেও বেশি।
ইসলামের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো প্রতিটি মানুষ হোক সে ধনী বা গরীব, বড় বা ছোট, স্বাধীন বা দাস যে পর্যায়েরই হোক না কেন সকলকে সকল প্রকার মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসত্বমনা করতে পারা। সকল প্রকার গোলামির পিঞ্জর থেকে বের করে এনে তাওহীদ ও ইসলামের ছায়াতলে এনে আল্লাহর দাস হিসেবে নিজেকে চিনতে পারাই দাসত্ব থেকে মুক্তির প্রথম উপায়। হয়তো শারীরিক দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য আব্রাহাম লিংকন চুক্তি করেছিলো তবে সত্যিকারের দাসত্ব থেকে মুক্তি মিলেনি। তবে ইসলাম প্রথমেই যেই জিনিসের শিক্ষা দিলো সকলেই আল্লাহর বান্দা কারো উপর কারো কোনো প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব নেই শুধুমাত্র ঈমান ও তাকওয়া ছাড়া। এই এক শিক্ষা এতদিনের দাসত্বের শক্ত খাচা থেকে মুক্তি দিলো। তাই তো নিগ্রো সম্মানিত সাহাবী বিলাল ইবন রাবাহ(রাদি) ও ইসলামের তাওহীদের দাওয়াত পেয়ে হয়ে গেলেন মুক্ত পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে আর আল্লাহর দাস হতে বাধা দিতে পারেনি। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুতে চিত করে শুইয়ে বুকে পাথর রেখে দিলেও কখনো আহাদ!!আহাদ!! বলতে ভুল হয়নি কেননা ইসলাম তাকে সত্যিকারে মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে এখন আর তিনি আল্লাহ ছাড়া কারো গোলাম নন। এই বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কেননা ভেজাল মুক্তমনারা কখনোই সত্যিকার মুক্তমনের স্বাদ আস্বাদন করতে সক্ষম নয়।
.ডাগর নয়না হূরদের সাথে বিবাহ কাদের হবে?
তবে ইসলাম শুধুমাত্র এতটুকু করেই ক্ষান্ত হয়নি। ইসলাম দাসদের মুক্ত করার ব্যাপারে কিছু যুগান্তকারী পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। সেগুলো নিম্নরুপঃ
.
(১) ইতক বা স্বেচ্ছায় মুক্তিদান;
.
(২) গুনাহের কাফফারা;
.
(৩) মুকাতাবাহ
.
(৪) সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা
.হুর দেখতে কেমন হবে এবং হুর কারা পাবে?
১। ইতক বা স্বেচ্ছায় মুক্তিদানঃ
.
কোন মনিব যদি চান সরাসরি স্বেচ্ছায় দাস-দাসীকে মুক্তি দিতে পারেন। কুরআন ও সুন্নাহয় এর অনেক ফযীলতের কথা বর্নিত হয়েছে।
আল্লাহ সৎকর্মের উল্লেখের সময় মুক্তিকামী ক্রীতদাসের জন্য ব্যয় করাকে উল্লেখ করেছেন।(সূরা বাকারাহ ২ঃ১৭৬)
.
এছাড়াও আল্লাহ বলেন,
.
আপনি কি জানেন সেই ঘাটি কি?? তা হলো দাসমুক্তি(সূরা বালাদ ৯০ঃ১২-১৩)
.
রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
.
“যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবে তাকে তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন”[5]
.
এছাড়াও স্বেচ্ছায় দাসমুক্তি বা ইতকের অনেক ফযীলত রয়েছে। এই কারনেই রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সাহাবারা এই ক্ষেত্রে অগ্রগন্য হয়ে অনেক দাসকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
.
রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনেক দাসকে ইতক দিয়েছিলেন। এছাড়া আবু বাকর(রাদি) যিনি বেশ ধনী ছিলেন তিনিও দাসমুক্তির জন্যে অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। ইতিহাসে এর নজীর দ্বিতীয়টি নেই যে স্বেচ্ছায় কেউ এতো পরিমানে দাস মুক্ত করেছে। এর একমাত্র কারন আল্লাহর আনুগত্য ও তার জান্নাত লাভের খালিস ইচ্ছা আর কিছুই নয়।
জান্নাতের প্রশস্ততা সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন
(২) গুনাহের কাফফারাহঃ
.
ইসলামে কিছু গুনাহের জন্য দাসমুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে। যেমনঃ
.
(ক) কোনো মুমিনকে ভুলবশত হত্যা করে ফেললে (সূরা নিসা ৪ঃ৯২)
.
(খ) ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহর নামে কৃত শপথ ভঙ্গ করে ফেলা (সূরা মায়িদাহ ৫ঃ৮৯)
.
(গ) যিহার।[6]
.
(ঘ) রোযার সময় ভুলবশত স্ত্রী মিলন করে ফেললে[7]
.
(৩) মুকাতাবাহ বা লিখিত চুক্তিঃ
মুকাতাবাহ বলতে এমন চুক্তিকে বোঝায় যার দ্বারা দাস নিজেই নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের শর্তে তার মুক্তির জন্য তার মনিবের সাথে এমন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যাতে মনিব ও দাস উভয়েই ঐক্যমতে পৌছায়।
শায়খ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আত তুওয়াইজিরী(রাহি) বলেন, “এটি হচ্ছে দাস দাসীর পক্ষ থেকে মনিবকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আজাদ করার নাম”[8]
.
আল্লাহ বলেন, “তোমাদের অধিকারভুক্ত যারা চুক্তিবদ্ধ হতে চায় তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হও যদি তাতে কল্যান থাকে” (সূরা নূর ২৮ঃ৩২)
ইসলাম মুকাতাবাহকে সহজ করে দিয়েছে। যেহেতু
.
১। যাকাতের একটি খাত ইসলাম নির্ধারন করেছে দাসমুক্তি। (সূরা তাওবা ৯ঃ৬০);
.
২। গোলামের জন্য এই ছাড় আছে যে সে মনিবকে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করবে;[9]
.
৩। মনিবের কর্তব্য হলো দাসকে অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে সহায়তা করা;
.
৪। দাস চুক্তি মোতাবেক অর্থ পরিশোধ করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে সে মুক্তি লাভ করবে;
.
(৪) ইসলামী সরকারের পৃষ্ঠপোষকায়ঃ
ইসলামী সরকার যাকাতের খাত থেকে দাসমুক্তিতে ব্যবহার করতে পারে যেমনটা পূর্বে বর্ণনা হয়েছে। আর মুকাতাবাহ চুক্তি সম্পাদন করার পরে দাসের এই নিয়ে মোটেও চিন্তা করা লাগত না যে তার মনিব এই কারনে তার উপরে অত্যাচার করতে পারে কেননা ইসলামী সরকার তখন তার পৃষ্ঠপোষক হয়ে যান। এমনকি সরকার চাইলে বাড়তি অর্থ দিয়ে দাস ক্রয় করে তা মুক্ত করে দিতে পারে।
.
ইসলাম দাস বানানোর প্রায় সকল রাস্তাকে(একটি বাদে) বন্ধ করে দিলেও মুক্তির অভিনব পদ্ধতি দিয়েছে যা সম্পূর্ণ বাস্তবভিত্তিক। এমন সব উপায়ের সন্ধান দিয়েছে যার ধারে কাছে কোনো তথাকথিত আধুনিক রাষ্ট্র ভাবতেও পারেনি। যেখানে কমুনিস্ট আর সোশালিস্টরা সবকিছুকেই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে ভাবতে চায় সেখানে ইসলাম দাস ও স্বাধীন সকলকেই সত্যিকার মানসিক ও বাহ্যিক অর্থেও মুক্তির পথের দিশা দেয়। যেখানে আমেরিকার মতো রাষ্ট্র একের পর এক দাস বিদ্রোহে জর্জরিত হয়ে দাস মুক্তির পথ অন্বেষণ করে তখন ইসলাম কালোত্তীর্ণ সমাধান ১৪০০ বছর আগেই দিয়ে গেছে।
সালাতের ভিতর যে দো'আ সমূহ পড়বেন?
