একবার মিলনের পর দুনিয়াতে স্বামীকে বিশ্রাম নিতে হয়। খুব উত্তেজিত থাকলে পরপর দুবার হয়তো মিলিত হয় স্বাভাবিক অবস্থায়। জান্নাতে এক স্ত্রীর সাথে মিলনের সময়ই অন্যজন আহবান করবে, হে স্বামী! আমরাও আপনার জন্যে, আমাদেরও সময় দিন! এভাবে আহবান চলতেই থাকবে। আহবান করবে কারণ এটা দুনিয়ার সর্বোচ্চ ঘন্টাখানেকের সহবাসের সময় না। আরে, জান্নাতি স্ত্রীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্বামী ৪০ বছর তাকিয়েই থাকবে, সুব'হানাল্লহ! মিলনের সময়টাও অনুরপ। তো, অপর স্ত্রীরা চাইবে না কেন? আল্লাহ জান্নাতি পুরুষকে সকল স্ত্রী, হুরদের সন্তুষ্ট করার সক্ষমতা দান করবেন।
কমপক্ষে ৭০ জন হুর থাকবে একেকজন জান্নাতি পুরুষের। দুনিয়ার মধ্য হতে থাকবে ২ জন স্ত্রী। উম্মু সালামা রদ্বিয়াল্লহু তা'আলা আনহা জানতে চান, আমাদের মধ্যে অনেক মহিলার ৪ বিয়েও হয়েছে। তারা তন্মধ্যে কার স্ত্রী হবে? কারণ হল, তখন বিধবা বিয়ের প্রচলন বেশি ছিল, তালাকপ্রাপ্তাকে নিঃসংকোচে বিয়ে করা হত। কোন নারী সাহাবির স্বামী যুদ্ধে শহীদ হলেন, তাঁকে অন্য সাহাবি বিয়ে করে নিলেন। এরপর ঐ সাহাবিও যুদ্ধে বা অসুস্থ হয়ে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলেন, এরপর অন্য কোন সাহাবি তাঁকে বিয়ে করলেন। কেউ হয়তো তালাকপ্রাপ্তা হতেন এরপর। এভাবে একাধিক বিয়ে হয়েই যেতো। নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, স্বামী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জান্নাতি স্ত্রীদের স্বাধীনতা দেয়া হবে। তাঁরা দুনিয়ার জান্নাতপ্রাপ্ত স্বামী হতে যাকে ইচ্ছা গ্রহণ করবেন।
জান্নাতি নারীদের সত্তরটি পাতলা পোশাক পরিধানের পরও তাঁদের পা'র মাংস ভেদ করে অস্থির ভেতরের মগজও দেখা যাবে। এত্ত বেশি সৌন্দর্য।
আল্লাহ বলেন,
“কোন মানব এবং জ্বীন (এ যুবতীদের) ইতোপূর্বে স্পর্শ করেনি । তাহলে (হে মানুষ ও জ্বীন) তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন দানকে অস্বীকার করবে ।”
এ যুবতীদের কুমারী হবার কারণ হলো, মানুষ সাধারনত কুমারীদের সাথে যৌনসঙ্গম করে বেশি আনন্দ উপভোগ করে থাকে । যেভাবে উপরের আয়াতে উল্লেখ হয়েছে যে, আল্লাহ জান্নাতী নারীদেরকেও কুমারী করে তৈরী করবেন ।
ইমাম রাযী (রহঃ) এ আয়াতের উপর একটি মন্তব্য করে বলেন যে, “আল্লাহ এখানে পৃথিবীর যৌনমিলনের কথা পরক্ষ শব্দে উল্লেখ করেছেন । যাহোক এ আয়াতে পরকাল জীবনের যৌনমিলনের কথা পরিষ্কার ও সরাসরি শব্দে উল্লেখ করেছেন । এর উদ্দেশ্য হলো এটা বুঝানো যে, পৃথিবীর যৌনসঙ্গম দোষমুক্ত নয় এবং নিখুঁতও নয় । অন্যদিকে আখিরাতের যৌনমিলন নিখুঁত ও সম্পূর্ন দোষমুক্ত ।
আবু হুরাইরাহ (রধিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করা হলো, “জান্নাতে কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে যৌনমিলন হবে?” তিনি উত্তরে বলেন, “একজন জান্নাতী এক সকালে ১০০ কুমারী তরুণীর সাথে যৌনসঙ্গম করবে ।”
জান্নাতী যখনই তার স্ত্রীর কাছে যাবে তখনই তাকে কুমারী পাবে:
আবূ হুরাইরাহ (রধিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, “জান্নাতে কি আমাদের জন্য যৌন মিলন থাকবে?” তিনি উত্তরে বলেন, “যার হাতে আমার জীবন তার শপথ নিয়ে বলছি যে, হ্যাঁ, জোড়ালো ধাক্কার (সাথে যৌনসঙ্গম হবে) । যখন আমাদের একজন জান্নাতে তার স্ত্রীর সাথে রতিক্রিয়া শেষ করবে; সে (স্ত্রী) পুনরায় কুমারী এবং পবিত্র রমনী হয়ে যাবে ।”
যৌন ইচ্ছার পূর্ন প্রশান্তি:
মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব আল-করাজী (রহঃ) আনসারদের একজনের কাছ থেকে বর্ণনা করেন এবং যিনি আবু হুরাইরাহ (রধিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সাঃ) আমাদেরকে বলেন, “যিনি আমাকে সত্যসহকারে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ নিয়ে বলছি, তোমরা পৃথিবীতে তোমাদের বাড়ী এবং স্ত্রীদের সাথে জান্নাতী লোকদের চেয়ে বেশি পরিচেত নও । এক ব্যক্তি জান্নাতের তার ৭২ জন স্ত্রীর কাছে আসবে যাদেরকে আল্লাহ বিশেষভাবে জান্নাতে তৈরি করেছেন এবং (তাদের) দু‘জন মানবনারী । মানব নারীরা হুরদের থেকে উত্তম হবে । কেননা, তারা পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদত (আদেশ-নিষেধ) করেছেন । জান্নতী ব্যক্তি ইয়াকুত বা পদ্মরাগ মণি পাথর দিয়ে তৈরি একটি রুমে তার প্রথম বউ-এর নিকট আসবে । তারা (উভয়ে) মুক্তা দিয়ে সজ্জিত স্বর্ণের একটি খাটের উপর (মিলন করার জন্য শয়ণ করবে) । এ খাটের বিছানা হবে ৭০ ধরনের রেশম (silk) দ্বারা তৈরি ।
সূফি ইবনু মাতি‘ (রধিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সাঃ) বলেন, নিশ্চয় জান্নাতে অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে একটি হলো জান্নাতীরা দ্রুতগামী প্রাণীতে চড়ে একজন অন্যজনের সাথে দেখা করতে যাবে । জিন ও লাগামসহ তাদের নিকট একটি ঘোড়া আনা হবে (যা চলার জন্য তৈরি থাকবে) । এই ঘোড়া মলমূত্র ত্যাগ করবে না । তারা এই ঘোড়ায় আরোহণ করে চলতে থাকবে যতক্ষন না তাঁরা আল্লাহর ইচ্ছা মত স্থানে পৌঁছেন । তারপর তারা এমন একটি মেঘের নিকট আসবে যে, উক্ত মেঘ এমন জিনিস ধারণ করবে যা কোন চোখ দেখেনি এবং কোন কান শোনেনি । জান্নাতীরা এই মেঘকে তাদের ইচ্ছমত (নিয়ামত) বর্ষণ করতে বলবে । মেঘ তাদরে উপর (তাদের ইচ্ছামতো) অবিরাম বর্ষণ করতে থাকবে । (তাদের ইচ্ছামত) যতক্ষন না তারা এমন নিয়ামত লাভ করে যা তারা কোনদিন চিন্তাও করেনি । তারপর আল্লাহ মৃদু বাতাস পাঠাবেন যা তাদের ডানে এবং বামে মৃগনাভির পাহাড় তৈরি করবে । জান্নাতীরা এটা তাদের ঘোড়ার কপালে এবং ঘাড়ে লাগাবে । তারা এই মৃগনাভি তাদের মাথায়ও ব্যবহার করবে । প্রত্যেক ব্যক্তি তার চুলকে তাদের ইচ্ছামত লম্বা করবে । এই মৃগনাভি তাদের চুল, ঘোড়া এবং কাপড়ের অন্যান্য স্থানে লেগে থাকবে । তারা তাদের প্রাণীর উপর চড়ে চলতে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না তারা এমন স্থানে পৌঁছে যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন । তারপর হঠাৎ একজন (ভাষাহীন সুন্দরী যুবতী) নারী তাদের একজনকে ডেকে বলবে, ‘ও আল্লাহর বান্দা! তোমার কি আমাদের প্রতি কোন আগ্রহ নেই?’ উত্তরে বলবেন, ‘তুমি কি এবং কে তুমি?’ সে (সুন্দরী) উত্তরে বলবে, ‘আমি তোমার প্রিয়তমা স্ত্রী ।’ জান্নাতী বলবে, ‘আমি তো তোমাকে চিনি না ।’ উক্ত সুন্দরী তরুণী বলবে, ‘তুমি কি জাননা যে, আল্লাহ বলেছিলেন যে, ‘কেউ জানেনা কি আনন্দ তাদের জন্য লুকানো রয়েছে তাদের সৎ কাজের পুরষ্কারস্বরূপ (কুরআন) ।’ জান্নাতী বলবে, ‘হ্যা, আমার প্রভুর শপথ নিয়ে বলছি ।’ তারপর জান্নাতী তার এ স্ত্রীর সাথে ৪০ বছর (যৌনমিলন অবস্থায়) থাকবে । (এ যৌনসঙ্গম করা অবস্থায়) সে তার একমাত্র মনোযোগ থাকবে যে আনন্দ ও সম্মান সে পেয়েছে তার দিকে ।
যৌনসঙ্গমের ক্ষমতা বৃদ্ধি:
যায়েদ বিন আরকান (রধিঃ) বর্ণনা করেন যে, একজন ইয়াহুদী রাসুল (সাঃ) এর কাছে আসল এবং বলল, “ও আবুল কাশেম! আপনি দাবি করছেন যে, জান্নাতী মানুষ খাবে এবং পান করবে ।” রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘যার হাতে আমার জীবন তার শপথ নিয়ে বলছি, জান্নাতের প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ লোকের মত খাওয়া, পান করা এবং যৌনমিলন করার ক্ষমতা দেওয়া হবে ।’
